দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে জমে উঠেছে কেনাবেচা। সুস্থ ও ভালো গরু কিনতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়লেও এ সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গরু দ্রুত মোটাতাজা করতে হরমোন, স্টেরয়েড ও নানা ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে প্রায়ই।
প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইরে থেকে বড় ও আকর্ষণীয় দেখালেও কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা সব গরু সুস্থ নাও হতে পারে। এমনকি এসব গরুর মাংস মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ গরু সাধারণত সচল ও প্রাণবন্ত থাকে। মানুষের উপস্থিতি টের পেলে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখায়, হাঁটাচলা করে এবং আশপাশের পরিবেশের প্রতি সতর্ক থাকে। কান ও লেজ নাড়ার মতো স্বাভাবিক আচরণও দেখা যায়।
অন্যদিকে কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর মধ্যে অনেক সময় দুর্বলতা ও নিস্তেজ ভাব দেখা যায়। তারা কম নড়াচড়া করে, হাঁটতে অনীহা প্রকাশ করে এবং সামান্য চলাফেরাতেই হাঁপিয়ে ওঠে। অনেক গরুকে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। চোখও স্বাভাবিকের তুলনায় ঘোলা বা ক্লান্ত দেখাতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, হরমোন বা স্টেরয়েড ব্যবহারের ফলে গরুর শরীরের কিছু অংশে অস্বাভাবিক ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে উরু, রান, ঘাড়, থুতনি কিংবা প্রস্রাবের পথের আশপাশ ফুলে থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে চামড়া অস্বাভাবিকভাবে টানটান দেখায়। মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা বা ফেনা বের হওয়াও সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়।
গরু কেনার সময় সহজ একটি শারীরিক পরীক্ষার পরামর্শও দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গরুর পিঠ বা মাংসল অংশে কয়েক সেকেন্ড আঙুল দিয়ে চাপ দিলে যদি সেই জায়গা বসে যায় এবং কিছু সময় পর্যন্ত দাগের মতো থাকে, তাহলে শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে থাকার আশঙ্কা থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, স্টেরয়েড বা হরমোন ব্যবহারের কারণে এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে। সুস্থ গরুর ক্ষেত্রে চাপ সরিয়ে নেওয়ার পর মাংস দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্টদের দাবি, কৃত্রিমভাবে গরু মোটাতাজা করতে ব্যবহৃত ক্ষতিকর ওষুধ পশুর লিভার ও কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে পশু দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিও থাকে।
এছাড়া এসব গরুর মাংস মানুষের শরীরেও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, লিভার, কিডনি ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি এড়াতে কোরবানির পশু কেনার সময় শুধু আকার বা ওজন নয়, গরুর আচরণ ও শারীরিক অবস্থাও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
জে আই